কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়
আপনি কি একজন স্টুডেন্ট?নাকি আপনার পড়াশোনা শেষ ? বেকার বসে আছেন ? নাকি ছোট
একটা চাকরি করছেন ? বর্তমানে দেশের যে অবস্থা এতে করে অল্প আয়ে আমাদের জীবিকা
নির্বাহ করা খুবই কষ্টকর।তবে আজকের এই ডিজিটাল যুগে কন্টেন্ট রাইটিং শিখে খুব
সহজেই আয় করা যায়।
কন্টেন্ট রাইটিং শেখার আগে আমাদের জানতে হবে কন্টেন্ট রাইটিং বিষয়টা কি? আজ আমরা
আরো জানবো কন্টেন্ট রাইটিং কত প্রকার? কন্টেন্ট রাইটিং শেখার প্রয়োজনীয়তা
কি?কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায় কি? কন্টেন্ট রাইটিং শিখে ক্যারিয়ার গঠনে কেমন
সুযোগ আছে?কন্টেন্ট রাইটিং শিখে আয়ের উপায় গুলো কি কি? সহজে কন্টেন্ট রাইটিং
শেখার টিপস সমূহ?কন্টেন্ট রাইটিং এ সফল হতে হলে কি কি করতে হবে?
পেজ সূচিপত্রঃকন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়
- .কন্টেন্ট রাইটিং বিষয়টা কি
- কন্টেন্ট রাইটিং কত প্রকার ও কি কি
- কন্টেন্ট রাইটিং শেখার প্রয়োজনীয়তা কি
- কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায় কি
- কন্টেন্ট রাইটিং শিখে ক্যারিয়ার গঠনে কেমন সুযোগ আছে
- কন্টেন্ট রাইটিং শিখে আয়ের উপায় গুলো কি কি
- সহজে কন্টেন্ট রাইটিং শেখার টিপস সমূহ
- কন্টেন্ট রাইটিং এ সফল হতে হলে কি কি করতে হবে
- উপসংহার
কন্টেন্ট রাইটিং বিষয়টা কি
কন্টেন্ট রাইটিং বিষয়টা হল কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সহজ ভাষায়,তথ্যবহুল ,শিক্ষণীয় ও
আকর্ষণীয় ভাবে লিখা।কন্টেন্ট লিখার সময় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার
কন্টেন্ট খুব গুরুগম্ভীর ভাষায় লিখা না হয়। আর আপনার কন্টেন্ট অবশ্যই তথ্যবহুল
হতে হবে।এমন ভাবে কন্টেন্ট লিখবেন যেন পাঠক পড়ে শুধু খুশি না হয়, পুরো কন্টেন্ট
এর বিষয়ে আগ্রহী হয়। যিনি কন্টেন্ট লিখেন তাকে বলে কন্টেন্ট রাইটার। একজন
কন্টেন্ট রাইটার ব্লগ, ওয়েবসাইট,সোশ্যাল মিডিয়া,ইউটিউব স্ক্রিপ্ট,ই-কমার্স - এসব
জায়গায় লিখতে পারে।
কন্টেন্ট রাইটিংএর প্রধান উদ্দেশ্য পাঠকের সমস্যার সমাধান করা। একটি কন্টেন্ট
নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে লিখা হয়। একটি ভাল মানের কন্টেন্ট লিখার জন্য রিসার্চ করতে
হয় ঠিকমত। আপনার কন্টেন্ট গুগলে সবার ওপরে র্যাংক করাতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই SEO
সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি যদি সব নিয়ম মেনে কন্টেন্ট লিখতে পারেন তাহলে আপনাকে আর
পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।
কন্টেন্ট রাইটিং কত প্রকার ও কি কি
কন্টেন্ট রাইটিং এ দক্ষ হলে ডিজিটাল মিডিয়াতে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। যেমন ব্লগ
রাইটিং , সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, SEO রাইটিং,কপিরাইটিং, প্রোডাক্ট
ডিসক্রিপশন,স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ইমেইল মার্কেটিং কন্টেন্ট ইত্যাদি। এসব বিষয়ের
মধ্যে যে বিষয় আপনার পছন্দ বা আপনি দক্ষ সে বিষয়ে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন।
আপনার পক্ষে যদি সম্ভব হয় তাহলে একাধিক বিষয় নিয়ে আপনি কাজ করতে পারেন।
আরো পড়ুনঃকন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়
কন্টেন্ট রাইটিং এর সব থেকে জনপ্রিয় হল ব্লগ রাইটিং।ওয়েবসাইডে লিখে খুব সহজে সফল
হওয়া যায়। কপিরাইটিং করেও অনেক টাকা আয় করা সম্ভব। প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন,
ল্যান্ডিং পেজ, সেলস ইমেইল দ্বারা কাউকে কোনো কিছু নিতে আগ্রহী করতে পারায়
কপিরাইটিং।সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেও ভাল আয় করা যায়। আপনি কন্টেন্ট রাইটিং এ
দক্ষ হলে আপনার কাজের অভাব হবে না।
কন্টেন্ট রাইটিং শেখার প্রয়োজনীয়তা কি
বর্তমানে আমরা ইন্টারনেটের দুনিয়াতে বসবাস করছি।এখন আমরা ইচ্ছা করলেই ঘরে বসে
ইনকাম করতে পারি।আর সেটা নিজের সময়ে কাজ করে করতে পারি। কন্টেন্ট রাইটিং শেখার
মাধ্যমে আমরা খুব সহজে মাসে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারি। বাংলাদেশে বসে একজন
কন্টেন্ট রাইটার মাসে ১০০০০ থেকে ৩০০০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করে প্রথম অবস্থায়।
দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথে তার ইনকামের পরিমান কয়েক গুন বেড়ে যায়।
কন্টেন্ট রাইটিং শিখে উন্নত ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।ব্লগ রাইটিং , সোশ্যাল মিডিয়া
পোস্ট, SEO রাইটিং,কপিরাইটিং, প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন,স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ইমেইল
মার্কেটিং কন্টেন্ট সহ বিভিন্ন মাধ্যমে কাজের সুযোগ তৈরি হয়।এছাড়া নিজস্ব
ব্র্যান্ড তৈরি করা যায়। ব্যবসার বিক্রি বাড়াতে ভালো মানের কন্টেন্টের চাহিদা
প্রচুর। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে একজন দক্ষ কন্টেন্ট রাইটার অনেক টাকা আয় করতে
পারেন।
কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায় কি
ভালো লেখক হতে চাইলে আগে ভাল পাঠক হতে হবে। জনপ্রিয় ওয়েবসাইট, বিভিন্ন ব্লগ,নিউজ
পোর্টাল পড়ুন নিয়মিত। বোঝার চেষ্টা করুন কিভাবে লিখতে হবে , কিভাবে লিখলে পাঠকের
মনোযোগ থাকবে,কোন ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যাবে। এবার নিজের মত করে ব্লগ পোস্ট
লিখা শুরু করুন। মনে রাখবেন লিখার শুরুতেই আপনার লিখার মান ভাল হবে না।আস্তে
আস্তে আপনার লিখার মান বাড়বে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট লিখার অভ্যাস করুন। লিখার
সময় অবশ্যই সহজ ভাষায় লিখতে হবে, কঠিন ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। আর সে জন্য
আপনাকে অবশ্যই ভাষার মৌলিক নিয়ম জানতে হবে। শব্দের বানান,বাক্য গঠন, যতি চিহ্নের
ব্যবহার ভাল্ভাবে জানতে হবে যেন সহজবোধ্য ভাবে লিখতে পারা যায়।
SEO না জানলে কন্টেন্ট রাইটিং শিখে আপনার কোনো লাভই হবে না। SEO না জানলে আপনার
কন্টেন্ট গুগলে র্যাংক করবে না।আপনার কন্টেন্ট গুগলে র্যাংক করানোর জন্য
কীওয়ার্ড রিসার্চ,হেডিং ব্যবহার,মেটা ডিসক্রিপশন , ইন্টারনাল লিংকিং, রিডেবিলিটি
শিখতে হবে। শুধু লিখলেই হবে না, লিখাটা নির্ভুল হতে হবে। সে জন্য রিসার্চ করতে
হবে ঠিক মত।ভাল রিসার্চ শিখতে হলে আপনাকে জানতে হবে গুগলে সার্চ করা,নির্ভরযোগ্য
সোর্স খুঁজে বের করা, তথ্য যাচাই করা ইত্যাদি। আমরা কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে
AI টুল ব্যবহার করতে পারি। তবে AI যা লিখবে হুবহু কপি পেস্ট করা যাবে না। আমরা
গবেষণা, শিরোনাম তৈরী,আইডিয়া জেনারেশন,লেখার গতি বাড়াতে AI টুল ব্যবহার করব।এছাড়া
Grammarly,Jasper AI,Hemingway Editor ব্যবহার করে ব্যাকরণ,স্পেলিং,টোন চেক,দ্রুত
কন্টেন্ট তৈরী,জটিল বাক্য চিহ্নিত করতে পারি।
আপনি যতই ভাল কন্টেন্ট লিখেন না কেন আপনার যদি একটা ভাল পোর্টফলিও না থাকে তাহলে
আপনি ক্লায়েন্ট পাবেন না। আপনার পোর্টফলিওতে ৫-১০ ভাল কন্টেন্ট,SEO
আর্টিকেল,প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন,আপনার ছোট একটা বায়ো রাখবেন।এতে করে ক্লায়েন্ট
পাওয়া সহজ হবে।আপনি যদি কন্টেন্ট রাইটিং ভাল করতে চান তাহলে কন্টেন্ট রাইটিংএর
ওপর একটা কোর্স করে নিতে পারেন। আপনি অনলাইন বা অফলাইন যে কোনো জায়গায় ফ্রি ও
পেইড কোর্স করতে পারেন।তাহলে আপনি প্রফেশনাল রাইটিং টেকনিক,SEO
রাইটিং,কপিরাইটিং,ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেলিং,ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন শিখতে পারবেন।
শুধু কোর্স করলেই আপনি দক্ষ হবেন না, দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনাকে প্রাকটিস করতে
হবে।আপনি যত বেশি প্রাকটিস করবেন তত এগিয়ে থাকবেন।এজন্য Medium,linkedIn,ব্লগ
ওয়েবসাইডে নিয়মিত লিখুন।টপিক খুঁজে না পেলে মন যা চাই লিখুন।নিজেকে লিখতে অভ্যস্থ
করুন।প্রথম দিকে আপনি ফ্রিতে লিখতে পারেন।এতে আপনার পোর্টফোলিও তৈরী হবে।প্রতিদিন
৩০ মিনিট লিখার অভ্যাস করুন।
সম্ভব হলে নিজের লিখা অন্যকে দেখান ও তার মতামত নিন।তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন
কোথায় ভুল সংশোধন করতে হবে।কিভাবে লিখা আরো আকর্ষণীয় করা যায়।প্রথম দিকে সব বিষয়ে
না লিখে আপনার পছন্দ মত নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিন।সেই বিষয়ে গভীরভাবে জানুন আর
পাঠকের চাহিদা মত লিখা শুরু করুন।
কন্টেন্ট রাইটিং শিখে ক্যারিয়ার গঠনে কেমন সুযোগ আছে
বাংলাদেশে কন্টেন্ট রাইটিং শিখে আয় করার অপার সুযোগ আছে।আপনি যদি ক্যারিয়ার নিয়ে
চিন্তায় থাকেন তবে অবশ্যই কন্টেন্ট রাইটিং শিখুন।আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে
মার্কেটপ্লেসে প্রচুর কাজ পাবেন।তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের জন্য
ক্রিয়েটিভ কন্টেন্ট প্রয়োজন হয়।স্টার্টআপ গুলোর জন্য ওয়েবসাইট কন্টেন্ট লিখতে
পারেন।ব্লগ কন্টেন্ট লিখে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির হয়ে কাজ করতে
পারেন।বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসা বেড়েই চলেছে, প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন লিখার জন্য
কন্টেন্ট রাইটার দরকার।ই-কমার্স ব্যবসায় প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন লিখে আয় করতে
পারেন।
আরো পড়ুনঃকন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়
কন্টেন্ট রাইটিং এর বড় সুবিধা হল আমরা দেশে বসে থেকে বিদেশের কাজ করতে পারি।আমরা
কন্টেন্ট রাইটিং আ যদি ভাল দক্ষ হতে পারি তাহলে বিদেশি ক্লায়েন্টদের হয়ে কাজ করে
ভাল মানের আয় করতে পারব।কারণ ইউরোপ আমেরিকার ক্লায়েন্টরা বাংলাদেশি রাইটারদের
লিখা পছন্দ করে।কারণ তারা কম দামে ভালো মানের লিখা খোঁজে।তাই কন্টেন্ট রাইটিং
ভালো মত শিখতে পারলে ক্যারিয়ার নিয়ে আর চিন্তা করতে হয় না।
কন্টেন্ট রাইটিং শিখে আয়ের উপায় গুলো কি কি
কন্টেন্ট রাইটিং এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।এখান থেকে একটা ভালো মানের আয় করা সম্ভব
যদি আপনি দক্ষ, অভিজ্ঞ হন।আপনি নতুন অবস্থায় অর্থাৎ (০-৬) মাসের মধ্যে মাসে
আনুমানিক ২০০-৫০০ ইউএস ডলার ইনকাম করতে পারবেন।একেবারে দক্ষ হয়ে গেলে মাসে আপনি
১৫০০-৫০০০+ ইউএস ডলার ইনকাম করতে পারবেন।
এখন আসি কোথায় কোথায় কাজ করে টাকা ইনকাম করা যায়।সবচেয়ে কমন উপায় হলো
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেমন, Fiverr,Upwork,Freelancer-এসব মার্কেটপ্লেসে
ক্লায়েন্টের প্রয়োজনমত কাজ করে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন।শুরুতে ইনকাম কিছুটা
কম হলেও অভিজ্ঞতা বাড়লে ইনকাম বাড়তে শুরু করবে।নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকেও
ইনকাম করা যায়।এখান থেকে আয় নির্ভর করে আপনার ট্রাফিকের ওপর।মাসে ৫০ হাজার পেজ
ভিউ হলে AdSence থেকে ২০০-৫০০ ইউএস ডলার পর্যন্ত আয় সম্ভব।আবার ডিজিটাল মার্কেটিং
এজেন্সির হয়ে কাজ করেও আয় করা সম্ভব।
কপিরাইটিং আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কপিরাইটিং করে অনেক বেশি আয় হয়।কপিরাইটিং হলো
মানুষকে লিখার মাধ্যমে কোনো জিনিস কিনতে বা নিতে রাজি করানো।সোশ্যাল মিডিয়া
কন্টেন্ট থেকে আয় করা যায়।নিউজ লেটার,ইমেইল সিকুয়েন্স বানানো এসব ইমেইল মার্কেটিং
কন্টেন্ট থেকে অনেক টাকা আয় হয়।আপনি যদি কোনো একটি বিষয়ে এক্সপার্ট হয়ে থাকেন
তাহলে কোর্স বা ইবুক লিখে প্যাসিভ ইনকাম করতে পারবেন।
সহজে কন্টেন্ট রাইটিং শেখার টিপস সমূহ
আমরা যারা নতুন কন্টেন্ট রাইটিং শুরু করি তাদের কন্টেন্ট রাইটিং এ নানা জায়গায়
ভুল হয়।এসব ভুল মানেই কন্টেন্ট রাইটিং এ পিছিয়ে পড়া।এই ভুলগুলো সংশোধনের জন্য
নিচে কিছু টিপস শেয়ার করলাম।
আরো পড়ুনঃকন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়
আপনার ব্লগে অবশ্যই সহজ, সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।যেনো পড়তে ও বুঝতে অসুবিধা না
হয়।কঠিন শব্দ যতটা পারেন এড়িয়ে চলুন।আপনার টার্গেট অডিয়েন্স অনুযায়ী লিখুন।লিখার
সময় উদাহরণ দিন,তাহলে বুঝতে সহজ হবে।ছোট ছোট গল্প,অ্যানাকেডাট যোগ করলে পাঠক পড়তে
বেশি আগ্রহী হয়।লিখা শেষ হলে আপনার লিখা আপনি পড়ুন,দেখুন আপনি সন্তুষ্ট কিনা? যদি
না হন তাহলে এডিট করুন।আবার অন্যকে আপনার লিখা দেখিয়ে ফিডব্যাক নিন।অন্যের
সমালোচনা থেকে শিখুন।
অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার লিখায় যেনো কোনো ভুল না হয়।ভুল তথ্য দিলে আপনার
ক্রেডিবিলিটি শেষ হতে সময় লাগবে না।সঠিক তথ্যের জন্য ভালো মত রিসার্চ করে
লিখুন।নিয়মিত লিখার অভ্যাস করুন।যেকোনো একটা বিষয়ে এক্সপার্ট হয়ে লিখলে বেশি
ভা্লো হয়।ক্লায়েন্ট ধরে রাখতে অবশ্যই ডেডলাইন মেনে চলুন।ভুলেও কপিপেস্ট করবেন
না।প্যারাগ্রাফ খুব বেশি বড় না করে পাঠকের প্রয়োজন অনুযায়ী লিখতে হবে।
কন্টেন্ট রাইটিং এ সফল হতে হলে কি কি করতে হবে
গবেষণা করার দক্ষতা,সৃজনশীলতা,সময় ব্যবস্থাপনা,যোগাযোগ দক্ষতা গুণগুলো থাকতে হবে
একজন সফল কন্টেন্ট রাইটারের।আপনাকে অবশ্যই সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে সময়মত কাজ করার
অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। লিখা কপিপেস্ট না করে পাঠকের চাহিদা বুঝে নতুনভাবে
উপস্থাপন করে লিখতে হবে।কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে ডেডলাইন মেনে দ্রুত কাজ করা
শিখতে হবে।আবার ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে লিখার ক্ষমতা থাকতে হবে।একদিন যদি অনলাইন ইনকাম
নিয়ে লিখেন পরের দিন আপনাকে লাইফস্টাইল নিয়ে লিখা লাগতে পারে।
অনেক সময় হয় কি লিখতে ইচ্ছা করে না,তখন অন্য কাজ করতে পারেন বা কোথাও ঘুরে আসতে
পারেন,কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারেন।তারপর আবার লিখা শুরু করুন।তবে কখনোই
একদিন লিখে দুই তিন দিন বসে থাকবেন না।সব সময় নিজেকে আপডেটেড রাখবেন।নতুন নতুন
টুলস এর ব্যবহার, নতুন টেকনিক শিখে রাখবেন।মার্কেটে কোন ট্রেন্ড চলছে এটা খেয়াল
রাখতে হবে।কোয়ান্টিটির থেকে কোয়ালিটিতে আপনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।মনে রাখবেন
মার্কেটপ্লেসে কোয়ান্টিটির থেকে কোয়ালিটির চাহিদা অনেক অনেক বেশি।
কন্টেন্ট রাইটিং এ সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই সময় দিতে হবে।আপনি মোটামুটি (৩-৬)
মাসের মধ্যে মৌ্লিক দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হবেন।নিয়মিত প্রাকটিস করলে ১-২ বছরের
মধ্যে আপনি পেশাদার লেভেলে পৌঁছাতে পারবেন।আসলে কন্টেন্ট রাইটিং শেখাটা আপনার ওপর
নির্ভর করে।কেউ খুব তাড়াতাড়ি শিখে ফেলে আবার কারো অনেক দেরি হয়।তবে আপনি যদি
ধৈর্য্যের সাথে শিখে নিয়মিত কাজ করে যেতে পারেন তবেই আপনি একদিন সফল কন্টেন্ট
রাইটার হবেন।
উপসংহার
কন্টেন্ট রাইটিং এ দক্ষ হলে আপনার কাজের অভাব হবে না।তবে এর জন্য দরকার ধৈর্য্য,
সময়,আবেগ ও অনুশীলন।আজ যারা সফল কন্টেন্ট রাইটার একদিন তারাও কঠোর ধৈর্য্য,সময় আর
আবেগ দিয়ে অনুশীলন করেছে।অনেক জায়গায় বাধার সম্মুখীন হয়েছে কিন্তু তারা থেমে
যায়নি।থেমে যায়নি বলেই আজ তারা সফল হয়েছেন।
আপনিও পারবেন কন্টেন্ট রাইটিং এ সফল হতে।এজন্য প্রয়োজন প্রবল ইচ্চা
শক্তি,ধৈর্য্য,কঠোর অনুশীলন।আপনি আগে পড়ুন, তারপর লিখুন।ছোট ছোট লিখা দিয়ে শুরু
করুন।প্রতিদিন নিয়মিত লিখুন।ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকুন,ধৈর্য্যই আপনাকে একদিন সফল
কন্টেন্ট রাইটার তৈরী করবে।
.webp)

.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url